আয়েশা রহমানVIEW PROFILE →
লবণ কমানোই সুস্থতার চাবিকাঠি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সোডিয়াম নির্দেশিকা
প্রতিদিন অতিরিক্ত লবণ নীরবে বাড়িয়ে তোলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সোডিয়াম কমানোর নির্দেশিকা ও কম-সোডিয়াম বিকল্প নিয়ে একটি শান্ত, তথ্যভিত্তিক আলোচনা।
বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির খবর অনুসরণ করে আমি শিখেছি, বড় চমকের চেয়ে ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কাজে দেয়। লবণ কমানোর বিষয়টি ঠিক তেমনই একটি ব্যাপার। এটি আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরি করে না, তবু নীরবে আমাদের হৃদয় ও রক্তচাপকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে চলে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক নির্দেশিকা আমার কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।
দৈনিক কতটা লবণ নিরাপদ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ এ ক্ষেত্রে বেশ স্পষ্ট। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন দুই হাজার মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণ করা উচিত, যা প্রায় পাঁচ গ্রাম বা এক চা-চামচের সামান্য কম লবণের সমান। দুই থেকে পনেরো বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তাদের শক্তির চাহিদা অনুযায়ী আরও কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে। বাস্তবে আমরা অনেকেই এর চেয়ে অনেক বেশি লবণ খেয়ে ফেলি।
নীরব ঝুঁকি: উচ্চ রক্তচাপ
অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রধান বিপদ হলো এটি একেবারে নীরবে কাজ করে। বাড়তি লবণ ধীরে ধীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, আর দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই অসংক্রামক রোগগুলো প্রায়ই কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই আঘাত হানে। তাই লবণ কমানো কেবল একটি খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা কৌশল বলে আমি মনে করি।
কম-সোডিয়াম বিকল্প লবণ
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে কম-সোডিয়াম বিকল্প লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ লবণের কিছু অংশ পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে মোট সোডিয়াম গ্রহণ কমে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও সংশ্লিষ্ট অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। যেসব অঞ্চলে খাবারে লবণের ব্যবহার বেশি, সেখানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।
শুধু লবণ নয়, সার্বিক খাদ্যাভ্যাস
তবে সুস্থতা কেবল লবণেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দেয়, মোট শক্তির দশ শতাংশের কম, আর সম্ভব হলে পাঁচ শতাংশের কম, চিনি বা মুক্ত শর্করা থেকে আসা উচিত। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত চারশো গ্রাম ফল ও শাকসবজি খাওয়া, পূর্ণ শস্য বেছে নেওয়া এবং সম্পৃক্ত চর্বি কমানোর কথাও বলা হয়েছে। এই উপাদানগুলো একসঙ্গে মিলে একটি সুষম খাদ্যতালিকা গড়ে তোলে।
আমার শান্ত পর্যবেক্ষণ
সব মিলিয়ে আমি এই নির্দেশিকাগুলোকে অতিরঞ্জিত না করেই গ্রহণ করি। কেবল বিকল্প লবণ বা কম চিনি রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান করবে না, আর প্রতিটি মানুষের শারীরিক অবস্থাও আলাদা। তবু ছোট ও ধারাবাহিক পরিবর্তন, যেমন রান্নায় একটু কম লবণ দেওয়া কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। প্রয়োজনে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।






